Breaking News
recent

ওঝা কীভাবে সাপের বিষ ঝাড়ে?

বাংলাদেশর ওঝা কীভাবে সাপের বিষ ঝাড়ে?


সাপে কাটা রোগীর জন্য এখন ওষুধ আছে। সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারলেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন রোগী। তবু ওঝা-কবিরাজের দৌরাত্ম্য কমেনি পুরোপুরি। আগে যখন এ দেশে সাপে কাটা রোগীর ওষুধ পাওয়া যেত না, তখন ওঝারাই প্রচুর রোগীকে সুস্থ করে তুলতেন। তাই বলে ওঝাদের তুকতাক, ঝাড়ফুঁকের কি কোনো কা-ক্যারামতি আছে? বিশ্বখ্যাত শিকারি ও পশু অধিকারকর্মী জিম করবেট, তার বিখ্যাত বই মাই ইন্ডিয়াতে একটি অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন ওঝাদের চিকিৎসা পদ্ধতির কথা। ওঝারা ঝাড়ফুঁক, তুকতাক করেন আসলে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা আদায় করার জন্য। যে ওঝা যত বেশি শ্রদ্ধা আদায় করতে পারবেন, তার তত নাম-ডাক এবং তার আয়-রোজগারও তত বেশি হবে। জিম করবেট লিখেছেন, ভারতবর্ষের বেশির ভাগ সাপই নির্বিষ। হাতে গোনা কয়েকটি সাপের বিষ আছে। সাপ এমনিতে মানুষকে কামড়ায় না। ভুল করে সাপের গায়ে পা দিলে, কিংবা কোনো কারণে সাপ নিজেকে বা নিজের ডিম ছানাকে বিপদ্‌গ্রস্ত মনে করলে বাধ্য হয়ে কামড় দেয়। তা সে বিষধর সাপই হোক, কিংবা নির্বিষ সাপই হোক।

আমাদের দেশে সাপে কাটা রোগী যতটা না বিষক্রিয়ায় মরে, তার চেয়ে বেশি মরে ভয়-আতঙ্কে হার্টফেল করে। এর বড় কারণ, সাপ সম্পর্কে মানুষের যুগ যুগ ধরে চলা কুসংস্কার ও ভয়। সাপে কাটা রোগীর বিষধর না নির্বিষ সাপে কেটেছে, এসব বিবোচনা বোধ কাজ করে না। আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়ে। অতি আতঙ্কে একসময় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা পড়ে।

Powered by Blogger.